রাফি আর মায়ার কাছে লিভিং রুম শুধু চার দেয়ালের একটা স্পেস ছিল না। তাদের বিশ্বাস ছিল এই ঘরটাই একটা বাড়ির হৃদস্পন্দন। ঢাকার ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে তাদের অনেকটা সময় কেটে গেছে, সবকিছু ঠিকই ছিল, কিন্তু কোথাও যেন কিছু একটার কমতি ছিল। তারা বড় কোনো চেঞ্জ চায়নি, শুধু এমন একটা পরিবর্তন যেটা মনোযোগ কাড়ে।
এক শনিবার সকালে বারান্দার পর্দা সরিয়ে মায়া বলল,
“ঘরটায় উষ্ণতা নেই। একটু জীবন দরকার।”
রাফি চায়ে চুমুক দিতে দিতে চারদিকে তাকাল। সোফাটা ক্লান্ত দেখাচ্ছে, সেন্টার টেবিলটা আলাদা করে কিছু বলছে না, দরজার পাশে জুতার র্যাকটা যেন হঠাৎ করেই বসানো। এমনকি কর্নারটাও কেমন যেন ফ্যাকাসে আর বোরিং দেখাচ্ছে। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল, হাতিল এর লিভিং রুম কালেকশন ঘুরে দেখা যাক, ঘরে কিছু নতুনত্ব আনা প্রয়োজন।

শোরুমে ঢুকেই দুজনের মন হালকা হয়ে গেল। বেশি জাকজমক নেই, আবার একঘেয়েমিও না। সবকিছুতেই ছিল একটা আরামদায়ক এবং ব্যালেন্সড সৌন্দর্য। প্রথমেই চোখে পড়ল সোফা সেট। নরম কুশন, প্রশস্ত বসার জায়গা, দেখেই বসতে ইচ্ছা হয়। মায়া বসতেই তার মুখের ভঙ্গি বদলে গেল।
“এটা শুধু আরামদায়ক না, দেখতেও খুবই সুন্দর” সে হাসল, “অনেক অপশান আছে, তবে আমি কালারফুল কিছুই বেছে নিতে চাই।” তাদের কাছে সোফা রুম এর খুবই ইম্পরটেন্ট একটা পার্ট, কারন এই সোফায় বসেই হয় গল্প, আড্ডা, হাসি, গান আর মুভি নাইট। হাতিল এর কালেকশান এ যেমন কালারফুল সোফা আছে, আছে মিনিমাল ডিজাইন এর কালেকশান ও।

পাশেই ছিল ডিভান, খুব ই সুন্দর ও আকর্ষণীয় একটি ফার্নিচার। ঘরের সঙ্গে আলাদা করে মানিয়ে নিতে হয় না, বরং ঘরের লুকটাই আরও পরিপাটি ও ইন্টারেস্টিং করে তোলে। বসার ঘরে ডিভান মানে অতিরিক্ত কোনো কিছু নয়, বরং এমন একটি অংশ, যেটা পুরো স্পেসকে আরও ব্যালান্সড আর গোছানো দেখায়। যেমন শুক্রবার বিকেলের অলস সময় হয়ত মায়া বই পড়ছে, কিংবা রাফি ফোনে খেলাধুলার খবর দেখছে। ডিভানটা যেন নিজের জন্য একটু সময় নেওয়ার জন্য বেস্ট একটা ফার্নিচার।
সেন্টার টেবিল ছিল সাধারণ ও পরিমিত ডিজাইনের, যা বসার ঘরের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় এবং পুরো ঘরটাকে গুছানো দেখায়। দরজার পাশে থাকা জুতার র্যাক, সাধারণত এমন জিনিসে খুব একটা নজর দেওয়া হয় না, কিন্তু সেটি ঘরে ঢুকতেই একটি পরিষ্কার ও গোছানো পরিবেশের অনুভূতি দেয়। এক কোণে দাঁড়ানো দোলনার সামনে এসে তারা দুজনই চুপ করে গেল। বাঁকানো কাঠের গড়ন, সুন্দর রঙ, সব মিলিয়ে ঘরে নস্টালজিয়া ক্রিয়েট করার মত একটি পিস। ভবিষ্যতের ছোট্ট গল্পগুলো যেন এখানেই অপেক্ষা করছে।

মায়ার চোখ পড়ল কিছু কুশনের দিকে। সে একটা তুলে নিল। কুশনগুলোর ডিজাইনে ছিল ভিন্নতা, তাই নিজের পছন্দ অনুযায়ী সহজেই বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। রঙ ও প্যাটার্নগুলো বসার ঘরের বিভিন্ন সেটআপের সঙ্গে মানিয়ে যায়। সোফা বা ডিভানে আলাদা করে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে এগুলো বেশ কাজে আসে। অল্প পরিবর্তনেই ঘরের লুক নতুন করে তোলার সহজ উপায় হিসেবে কুশন বেশ ইউস্ফুল।
ভেতরের দিকে ফাইল র্যাক দেখে রাফি খুশি হয়ে গেল। এতদিনের ছড়ানো কাগজপত্রের একটা ঠিকানা পাওয়া যাবে। কারণ বসার ঘর শুধু বিশ্রামের জায়গা নয়, এখানেই চলে জীবনের বাস্তব দায়িত্বও। ফাইল র্যাকটা ঘরে একটা শৃঙ্খলা আনে, আর ডিভান দেয় প্রশান্তির বিরতি।
ঘরে ফিরে সবকিছু জায়গা পেতে শুরু করল। সোফায় জমল আড্ডা, কুশনে যোগ হলো অনুভূতি, সেন্টার টেবিল মুহূর্তগুলোকে এক করল, ডিভানে এল ধীর সময়, ফাইল র্যাকে থাকল দায়িত্ব, জুতার র্যাক অতিথিদের স্বাগত জানাল, আর দোলনায় রইল নীরব স্বপ্ন।
তাদের বসার ঘরটা আর শুধু সাজানো ঘর নয়, একটা গল্প হয়ে উঠল।
ভালোবাসার উষ্ণ রঙে আঁকা, আরামের ছোঁয়ায় গড়া, আর স্টাইলে ভারসাম্যপূর্ণ।
বন্ধুরা এলে কেউ আর জিজ্ঞেস করে না, কোথা থেকে ফার্নিচার নিয়েছ। সবাই শুধু বলে, “তোমাদের ঘরটা খুবই ইন্টেরেস্টিং এবং পিসফুল মনে হয়।”
নিজের পছন্দ গুলো মাথায় রেখে ভালবেসে আমরা আমাদের বাড়ি ও ঘর গুলো সাজাই, এবং দিন শেষে, ভালোবাসাই তো সবচেয়ে ভালো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। তাইনা?