আমরা সাধারণত ঘরের দিকে তাকালে দেয়াল, সোফা, টেবিল বা বিছানার কথাই আগে ভাবি। কোথায় কী রাখব, কোন ফার্নিচারটা কাজে লাগবে, এসব নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়, সেটা হল ঘরের কর্নার। একটা ঘর যত সুন্দরভাবেই সাজানো হোক না কেন, যদি কর্নার ফাঁকা থাকে, কোথাও যেন একটা অসম্পূর্ণতার অনুভূতি থেকে যায়।
এই ভাবনাটা মাথায় আসে এক বিকেলে, যখন আমি আর মা বসে লিভিং রুমটা দেখছিলাম। সবকিছু ঠিকঠাক, পরিষ্কার, গোছানো, তবুও মনে হচ্ছিল কিছু একটা নেই। তখনই বুঝলাম, সমস্যাটা আসলে কোথায়। দেয়ালের পাশে সেই ফাঁকা জায়গাগুলো যেন নিজের পরিচয় খুঁজছিল।
তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, এবার একটি সুন্দর ওপেন শেলফ এই কর্নারটাতে না হলেই নয়। সেই ভাবনা থেকেই আমরা গেলাম হাতিল-এর ওপেন শেলফ কালেকশান এক্সপ্লোর করতে।
ওপেন শেলফ আমাদের চোখে প্রথমেই আলাদা লাগল কারণ এটা ভারী ক্যাবিনেটের মতো নয়। কর্নার ওপেন শেলফ গুলো জায়গা দখল করে না, বরং জায়গাটাকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলে যেখানে সব থাকবে পরিপাটি।
আমরা এমন একটা শেলফ খুঁজছিলাম যেটা ঘরের কোণায় খুব সুন্দরভাবে সেট হবে এবং মানিয়ে যাবে। ওপেন হবে, যাতে ঘর বেশি হিবিজিবি বা কঞ্জাস্টেড না মনে হয়।
শেলফ দেখতে গিয়ে আমরা একটু কনফিউজড হয়ে পড়েছিলাম।

Claudio-126, Sybil-133 আর Schumann-134, তিনটিই দেখতে ভীষণ সুন্দর, একেকটা একেক ধরনের অ্যাসথেটিক ভাইব দেয়। Claudio একটু মিনিমাল, Sybil খুব elegant, আর Schumann-134 দেখতেই মনে হচ্ছিল এইটাই বুঝি ওই কর্নার টার জন্য বানানো।
শেষ পর্যন্ত আমরা Schumann-134-ই বেছে নিলাম। কারণ এমন একটা লুক চাইছিলাম যাতে লিভিং রুমের কর্নারটা লাগে পরিপূর্ণ, কিন্তু ওভারডেকোরেটেড নয়। এই শেলফের শেলফগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা যে যা রাখবো, সবকিছুই পরিপাটি আর সুন্দর দেখাবে। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, খুব বেশি চেষ্টা না করেও শেলফটা ঘরের সঙ্গে সহজেই মিশে গেছে, যেন শুরু থেকেই এই কোণটার জন্যই তা সিলেক্টেড ছিল।

একটা কর্নার, অনেক গুলো অভ্যাসের পরিবর্তন
শেলফটা বসানোর পর কর্নার এর ব্যবহার নিজে থেকেই বদলে গেল। আগে যেটা ছিল একেবারে ফাঁকা আর অবহেলিত, এখন সেটা ধীরে ধীরে ঘরের একটা পরিচিত আর দরকারি জায়গায় পরিণত হয়েছে। ওই কোণটার দিকে এখন আর চোখ এড়িয়ে যায় না, বরং স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টি আটকে যায়। নিচের শেলফে কিছু প্রয়োজনীয় বই আর ম্যাগাজিন রাখলাম যেগুলো আমরা প্রায়ই পড়ি, কিন্তু আগে কখনো টেবিলের উপর, কখনো সোফার পাশে এলোমেলোভাবে পড়ে থাকত। এখন সেগুলোর একটা নির্দিষ্ট জায়গা হয়েছে, ফলে ঘরটাও অনেক বেশি গোছানো লাগে। মাঝের শেলফে একটা ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট আর একটি সিম্পল ডেকোর পিস রাখলাম, যা কর্নারটায় একটা প্রাণবন্ত অনুভূতি যোগ করেছে। দিনের বেলা জানালার আলো পড়ে গাছটার পাতায়, আর সন্ধ্যায় আলো জ্বালালে পুরো কর্নার টা আলাদা করে চোখে পড়ে।
আর উপরের শেলফে একটা ফ্রেম করা ছবি রাখলাম বাবার সাথে, খুব বেশি কিছু না, কিন্তু এমন একটা জিনিস যেটা দেখলে ভালো লাগে, এবং বাবার স্মৃতিও উপলব্ধি হয়।

ওপেন শেলফ কেন ঘরের মুড বদলে দেয়?
সময় গড়ানোর সাথে সাথে বুঝলাম, ওপেন শেলফ শুধু সাজানোর জিনিস না, এটা ধীরে ধীরে আমাদের অভ্যাসই বদলে দেয়। কারণ এখানে কিছুই আড়ালে থাকে না। পরিষ্কার করা সহজ হয়ে যায়, কোনো কোণা ভুলে যাওয়া বা অবহেলিত থাকার সুযোগ থাকে না। কী কোথায় আছে, সেটা মনে রাখার জন্য আলাদা করে ভাবতে হয় না, সবকিছু চোখের সামনেই থাকে। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজও অনেক বেশি গুছানো লাগে।
যখন দেখি সবকিছু নিজের জায়গায় আছে, তখন মনটাও হালকা লাগে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এসেছে ঘরের কোণটার অনুভূতিতে। আগে যেটা ছিল একেবারে ফাঁকা আর গুরুত্বহীন, এখন সেটাই লিভিং রুমের একটা সুন্দর ফোকাল পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।
এখন লিভিং রুমে ঢুকলেই চোখটা স্বাভাবিকভাবেই ওই কোণটায় চলে যায়। মনে হয়, ঘরটা আর অসম্পূর্ণ নয়, কোথাও কোনো ঘাটতি নেই। তখনই বুঝলাম, ঘরের সৌন্দর্য আসে না শুধু ডেকোরেশন থেকে। আসে স্পষ্টতা, যত্ন আর উদ্দেশ্য থেকে। আর কখনো কখনো, একটা সুন্দরভাবে সাজানো কর্নার পুরো ঘরের গল্পটা নতুনভাবে বলে দেয়।
