প্লাস্টিকের ফার্নিচারের চেয়ে কাঠের ফার্নিচার কেন ভালো?

ফার্নিচার কেনার সময় কাঠ ও প্লাস্টিকের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে। অনেকেই কমদামে বেশিদিন অক্ষত থাকবে বলে প্লাস্টিকের প্রতি ঝুঁকছে। তবে কাঠের ফার্নিচার অনেক সুবিধা রয়েছে, যা প্রতিদিনের ব্যবহারে প্লাস্টিকের আসবাবকে ছাড়িয়ে যায়। আজকের পোস্টে সেসব নিয়েই আলোচনা করবো। সবকিছু জানার পর হাতিল-এর ওয়েবসাইট থেকেই পছন্দমত কাঠের ফার্নিচার নিতে পারবেন সবচেয়ে সেরা প্রাইসে। তাই চলুন আর দেরি না করে মূল কথায় যাই।

কেন অনেকে প্লাস্টিকের ফার্নিচার কিনে?

হালকা, সাশ্রয়ী এবং সহজে বহনযোগ্য বলে অনেক ব্যবহারকারী প্লাস্টিকের ফার্নিচার কেনেন। কাঠ বা ধাতুর তুলনায় এর দাম কম, তাই অনেকেই বাজেটের কারণে এটি বেছে নেন।  পাশাপাশি প্লাস্টিকের ফার্নিচার জল ও আবহাওয়া প্রতিরোধী, তাই বাইরে ব্যবহারের জন্য এটি উপযুক্ত। এটি সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং মরিচা ধরে না, যা রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমায়। 

এছাড়াও, বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের বৈচিত্র্যের কারণে এটি আধুনিক ঘর সাজানোর জন্য জনপ্রিয়। তবে দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার দিক থেকে এটি কাঠের আসবাবের মতো উন্নত নয়। ফার্নিচার কেনার সময় বিবেচনা করার ব্যাপারগুলো মাথায় রাখলে সেরা মানের কাঠের প্রোডাক্ট পাবেন।

প্লাস্টিকের চেয়ে কাঠের ফার্নিচার ভালো হবার কারণসমূহ—

স্থায়ীত্ব থেকে নান্দনিকতা, এছাড়া রয়েছে পরিবেশ বান্ধব বৈশিষ্ট্য। এসব কারণে কাঠের ফার্নিচার সবসময় প্লাস্টিকের উপরে অবস্থান।

১. স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার

কাঠের ফার্নিচার অনেক বেশি শক্ত ও টেকসই হয়। প্রোপারলি মেইনটেন্যান্স করলে একই ফার্নিচার কয়েক দশক টিকে থাকতে পারে। অপরদিকে প্লাস্টিকের আসবাব সহজেই ভেঙে যায় বা ফাটল ধরে। অনেকে হেভি ব্যবহারের পরও স্থায়ীত্বের জন্য প্লাস্টিক ফার্নিচার নেয়। কিন্তু প্লাস্টিক মানবশরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর, এমনকি এর থেকে ক্যান্সারের সম্ভাবনাও থাকে।

২. প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব উপাদান

কাঠ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। কাঠের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কাঠের ফার্নিচার নষ্ট হয়ে গেলেও তা মাটিতে মিশে যায়। তাই কাঠ  পরিবেশের জন্য নিরাপদ। কিন্তু প্লাস্টিক পরিবেশে দূষণ সৃষ্টি করে এবং সহজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়। 

৩. সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা

কাঠের আসবাবপত্র বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। এ ধরণের ফার্নিচারগুলো ট্রাডিশনাল ডিজাইন থেকে আধুনিক ডিজাইন সবকিছুর সাথে মানানসই। কাঠে সুন্দর কার্ভিং করে একটা এলিগ্যান্ট লুক পাওয়া যায়। সেই হিসেবে প্লাস্টিকের আসবাব দেখতে অনেকটা সাধারণ ও সস্তা মনে হয়। বেশিরভাগ প্লাস্টিকের ফার্নিচারই বাচ্চাদের ব্যবহৃত খেলনার মত মনে হবে।

৪. আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যসম্মত

এটা ঠিক যে প্লাস্টিকের ফার্নিচার পরিবহন করা বেশ সহজ। কিন্তু প্লাস্টিকের আসবাব গরম ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় আরামের পরিবর্তে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। অল্প ধাক্কাতেই প্লাস্টিক পড়ে যেতে পারে। সেখানে কাঠের ফার্নিচার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং আরামদায়ক হয়। যেকোনো ধরনের কাপড় দিয়ে কাঠ পরিষ্কার করাও বেশ সহজ। 

৫. কাস্টমাইজেশন ও রিস্টোরেশন সুবিধা

কাঠের আসবাব সহজেই নতুন ডিজাইনে কাস্টমাইজ করা যায়। অনেকে পুরনো কাঠের আসবাব রিস্টোর করে নতুনের মতো ব্যবহার করে থাকে। অথচ প্লাস্টিক রি্উজেবল হলেও সরাসরি রিস্টোর করা সম্ভব নয়। মানে আপনার ফার্নিচার একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা ফেলে দিতে হয়।

৬. মূল্য ও বিনিয়োগের দিক থেকে লাভজনক

কাঠের আসবাব প্রথমে একটু বেশি দামের হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি লাভজনক। কিন্তু প্লাস্টিকের আসবাব কম দামে পাওয়া গেলেও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বারবার কিনতে হয়।

ঘর সাজাতে কাঠের কি কি কাঠের ফার্নিচার কেনা প্রয়োজন?

ঘর সাজাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাঠের ফার্নিচার কেনা প্রয়োজন যা ঘরের ব্যবহারযোগ্যতা ও সৌন্দর্য বাড়ায়। নিচে প্রয়োজনীয় কাঠের ফার্নিচারের তালিকা দেওয়া হলো—

  • বেডঃ আরামদায়ক ঘুমের জন্য একটি ভালো মানের কাঠের খাট প্রয়োজন। এটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মার্কেটে বড় কিং বেড, কুইন বেড বা আধুনিক ফোল্ডিং বেড গুলো বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।
  • ডাইনিং টেবিল ও চেয়ারঃ খাবার ঘরের জন্য শরীরের শেপ অনুযায়ী কাঠের ডাইনিং টেবিল ও চেয়ার প্রয়োজন। এটি শরীরের ক্ষতি হবেনা এবং ঘরের অভিজাত লুক পাবেন। ৪ বা ৬ সীটারের ডাইনিং টেবিল সেট কিনলে অনায়াসে পরিবারের সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করা যায়।
  • ওয়ারড্রোব ও ড্রেসিং টেবিলঃ পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস সংরক্ষণের জন্য ওয়ারড্রোব দরকার। এর সাথে সাজসজ্জার জন্য অপরিহার্য ড্রেসিং টেবিল। এই দুই জিনিস না থাকলে ঘরকে দেখতে অনেক শূণ্য মনে হবে।
  • সোফা সেটঃ বসার ঘরে আরামদায়ক ও স্টাইলিশ কাঠের সোফা সেট বাড়ির শোভা বৃদ্ধি করে। এটি অতিথি আপ্যায়নের জন্যও প্রয়োজনীয়। বাসার ডিজাইন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ফ্যাব্রিক সোফা, লেদার সোফা, এল শেপড সোফামডুলার সোফা পাবেন।
  • টিভি ক্যাবিনেট বা শেলফঃ টিভি বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট রাখার জন্য কাঠের টিভি ক্যাবিনেট ব্যবহার করা হয়। এটি ঘরের ইন্টেরিয়র ডিজাইনকেও উন্নত করে। মার্কেটে বিভিন্ন হাইটের টিভি কেবিনেট দেখতে পাবেন।
  • বুকশেলফঃ বইপ্রেমীদের জন্য কাঠের বুকশেলফ ঘরের একটি আকর্ষণীয় সংযোজন হতে পারে। বড় বাসার জন্য ওপেন বুকশেলফ আর ছোট বাসার জন্য কর্ণার শেলফ নেওয়া ভালো হবে।

প্লাস্টিকের চেয়ে কাঠের ফার্নিচারের দাম বেশি হবার কারণ কি?

কাঠ প্রাকৃতিক উপাদান হবার কারণে সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লাগে। শক্ত ও টেকসই কাঠ, যেমন— সেগুন, শিশু বা মহগনি গাছ থেকে সংগ্রহ করতে বছর ধরে পরিচর্যা করতে হয়। 

এভাবে ফার্নিচার করতে হলে উৎপাদন খরচ অনেক গুণ বেড়ে যাবে। এছাড়া, কাঠের আসবাব তৈরি করতে দক্ষ কারিগরের প্রয়োজন হয়, যারা হাতে নকশা ও ফিনিশিং দিয়ে একে আকর্ষণীয় করে তোলেন। কাঠ কাটা, শুকানো, পালিশ করা ও বিভিন্ন কাঠামোতে রূপ দেওয়ার জন্য উন্নত মেশিন ও সময় প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল।

কিন্তু প্লাস্টিকের আসবাব তুলনামূলকভাবে কম দামে তৈরি করা যায়, কারণ এটি শিল্প কারখানায় অল্প সময়ে মেশিনের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। কাঠের আসবাব দীর্ঘস্থায়ী, সহজে মেরামতযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এর বাজারমূল্যও বেশি হয়। কাঠের গুণমান ও ডিজাইন যত উন্নত হয় ততই এর মূল্য বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার

কাঠের আসবাব টেকসই, পরিবেশবান্ধব, নান্দনিক ও আরামদায়ক হওয়ায় এটি প্লাস্টিকের তুলনায় অনেক ভালো বিকল্প। দীর্ঘমেয়াদে কাঠের আসবাব ব্যবহার করাই অধিকতর বুদ্ধিমানের কাজ।

কাঠের ফার্নিচার নিয়ে কিছু বহুল আলোচিত প্রশ্নোত্তরঃ

কাঠের ফার্নিচার কেন বেশি টেকসই?

কাঠের ফার্নিচার উচ্চ মানের কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি কয়েক দশক ধরে ভালো থাকে এবং নকশার পরিবর্তন বা সংস্কার করাও সহজ। হাতিল-এর মত বড় ফার্নিচার ম্যানুফ্যাকচারার ব্র‌্যান্ড গুলো ক্লিন ড্রাই চেম্বারে ব্লীচ উডকে প্রসেস করে ফার্নিচার তৈরি করে।

কাঠের ফার্নিচারের যত্ন কীভাবে নিতে হয়?

কাঠের ফার্নিচার ভাল রাখতে নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে মুছতে হয় এবং মাঝে মাঝে কাঠের পালিশ ব্যবহার করা উচিত। ফার্নিচারের বিকৃতি বা ফাটল এড়াতে অতিরিক্ত সূর্যের আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখতে হবে। সব কাঠের ফার্নিচার পানি সহনশীল নয়, তাই বিশেষ প্রক্রিয়াতে পানি প্রতিরোধী ফার্নিচার গুলো কিনবেন।

কাঠের ফার্নিচার কি পোকামাকড়ের সমস্যায় পড়ে?

হ্যাঁ, নিম্নমানের কাঠের ফার্নিচার উইপোকা বা অন্য পোকামাকড়ের আক্রমণের শিকার হতে পারে। তবে ভালো মানের কাঠ এবং উপযুক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করলে এই সমস্যা এড়ানো যায়। ফার্নিচার নির্মাতারা প্রথমেই বিশেষ কেমিক্যালের সাহায্যে কাঠে তাকা পোকামাকড় নিধন করে থাকে।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।